অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ৫ বছরের মুনাফা ও লভ্যাংশের হালচাল
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মুনাফা ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছে না। কোম্পানিটি মুনাফা ২০২১ সালে চমক দেখালেও এর পর ধারাবাহিক ভাবে মুনাফা কমলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মুনাফা কিছুটা বেড়েছে। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ কমেছে। মুলত ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির মুনাফার সাথে ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।
কোম্পানিটির ইতিহাসে ২০২৩ সালে সব্বোর্চ ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। আর গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। তবে কোম্পানিটির গত ৫ বছরের লভ্যাংশ ও মুনাফার হালচাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হলো।
তবে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সর্বশেষ ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৩৫ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ৯ টাকা ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ২৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ১২ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১০ টাকা ১৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮৪ পয়সায়।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬। এর ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৯০, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৩২ দশমিক ৮৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই সম্প্রতি কোম্পানির এক কোটি শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে এই কোম্পানির শেয়ার কিনবেন। কোম্পানিটির বাজারদর অনুযায়ী এক কোটি শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৬৩ কোটি টাকা।
বর্তমানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ। এর মধ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নামে রয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৬টি শেয়ার, যা মোট শেয়ারের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন করে এক কোটি শেয়ার কিনলে তাঁর মালিকানা বেড়ে প্রায় ২২ শতাংশে পৌঁছাবে।



