বড় উত্থানের পরও পুঁজিবাজারে পতনের নেপথ্যে আস্থা সংকট
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে বড় উত্থানের এক কার্যদিবসে মাথায় ফের দরপতনের নেপথ্যে আস্থা সংকট। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবস দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান দেখা গেলেও নির্বাচন পরবর্তী টানা ৫ কার্যদিবসে সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত নির্বাচনের পর টানা দরপতনে বাজার নিয়ে কিছুটা আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।
এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)’র শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আশায় ইতিবাচক প্রবণতা ফেরার পর তৃতীয় কার্যদিবসে ফের দরপতন ঘটেছে । এ নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী দুই কার্যদিবস বাদে বাকি পাঁচ কার্যদিবসই সূচকের দরপতন হয়েছে।
তবে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলো বিএনপি সরকার গঠনের পর পুঁজিবাজার ভালো হবে। তবে ভালো তো দুরের কথা এখন টানা দরপতন ঘটছে। মুলত নতুন নির্বাচিত সরকারের সম্ভাব্য নীতি ও নিয়ন্ত্রক অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই বাজারে চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলী মতে, গত কিছুদিন ধরে বাজারে যে সংশোধন চলে আসছিল তা হয়তো শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থা থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ বর্তমান বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বিনিয়োগ উপযোগী।
এ ছাড়া নতুন সরকার আসায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীদের একটি অংশও নতুন করে বাজারে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে এ যাত্রায় পুঁজিবাজারে ভালো কিছু আশা করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে মূল সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। এই সংকট কাটাতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। না হলে দীর্ঘমেয়াদে বাজার টেকসই হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তিনি।
জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৫৪২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৯ টির, দর কমেছে ২২১ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ৮২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৪ টির এবং ৪০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



