চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ব্রোকার হাউজে বড় গরমিল, শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দুটি ব্রোকার হাউজের ট্রেড (লেনদেন) সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শনে গ্রাহকদের সম্পদে বড় ধরনের গরমিল পাওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের পোর্টফোলিও থেকে বড় অংশের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে শেয়ারের অস্তিত্ব থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তা উধাও হয়ে গেছে।
ট্রেড স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো: সালটা সিকিউরিটিজ ও কবির সিকিউরিটিজ লিমিটেড। সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান জানান, নিয়মিত পরিদর্শনে গ্রাহকদের সম্পদে ঘাটতি পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত করা হয়েছে। ট্রেড সুবিধা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের ডিপি (ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট) কার্যক্রমও বর্তমানে বন্ধ। বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে গরমিলের সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সালটা সিকিউরিটিজের গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার আগ্রাবাদে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের ভিড়। শেয়ার অন্য ব্রোকার হাউজে স্থানান্তরের (লিংক অ্যাকাউন্ট) প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রাহকদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী মো. নাদিম জানান, তার প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার রয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি শেয়ার স্থানান্তরের চেষ্টা করলেও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে।
সিএসই সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক গ্রাহক শেয়ার স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে মালিকানা যাচাই, মার্জিন ঋণ স্থিতি, এনওসি এবং সিডিবিএল রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে পরে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে, তাই প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকের নগদ অর্থ ‘কনসলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট’ -এ থাকে, যা ব্যবহার করার অধিকার ব্রোকার হাউজের নেই। সেখানে এক টাকার গরমিলও গুরুতর অপরাধ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিম উদ্দিন বলেন:”সমস্যার মূলে রয়েছে স্বার্থের সংঘাত । অনেক ক্ষেত্রে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় লাভ-ক্ষতির হিসাব মেলাতে গিয়ে গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হয়। বাজার যখন নিস্তেজ থাকে, তখনই এই ধরনের ঘাটতিগুলো সামনে আসে।”
বাজার সংশ্লিষ্টদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, ব্যাংক খাতের তুলনায় পুঁজিবাজারে আর্থিক অপরাধের বিচার বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির কম। আইন থাকলেও দীর্ঘ শুনানী ও প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতায় অপরাধীরা পার পেয়ে যায় বা সময় পেয়ে যায়।



