আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারেন ফের সক্রিয় হচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। শেয়ার বিক্রির বদলে তারা শেয়ার কেনায় মনোযোগী হয়েছেন। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির বিপরীতে ক্রয়ের পরিমাণ বেড়েছে। গত দুই বছর টানা নিম্নমুখী থাকার পর চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।

ফলে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার বিক্রির অবস্থানে থাকার পর তারা আবারও নিট ক্রেতার ভূমিকায় ফিরেছেন। এতে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে নতুন প্রত্যাশা শুরু হয়েছে।

গত কয়েক মাস রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগের কারণে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছিলেন। টানা বিক্রির প্রবণতা পুঁজিবাজারে চাপ তৈরি করে এবং লেনদেনের গতি কমিয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও নীতিগত স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা মোট ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। একই সময়ে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ১৮ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। আর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশিদের শেয়ার লেনদেন ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১৭৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে বিদেশিরা ১১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করেছিলেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শেয়ারবাজারে তারল্য পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। এতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মাঝেও আস্থা ফিরে আসে এবং তারা নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।

অবশ্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি ১৫ দিনে বিদেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমেছে। জানুয়ারির শুরুতে বিদেশি হিসাবধারীর বেনিফিশিয়ারি ওনার্সের (বিও) সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৫৪৯টি। এটি ফেব্রুয়ারির ১৫ দিন শেষে কমে হয়েছে ৪৩ হাজার ১০১টি হয়েছে। এ সময়ে বিদেশিদের বিও কমেছে ৪৪৮টি। অর্থাৎ সংখ্যার দিক বিবেচনায় বিদেশিদের অংশগ্রহণ কমলেও তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ চলতি বছরের প্রথম দেড় মাসে বেড়েছে।

ডিএসইর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিদেশিরা মোট ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেন। বিপরীতে কেনেন ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার শেয়ার। ফলে বছর শেষে তাদের নিট বিনিয়োগ ২৭০ কোটি টাকা কমেছে। ২০২৪ সালেও বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ কমেছিল ২৬১ কোটি টাকা। এর আগের বছর (২০২৩ সালে) তাদের নিট বিনিয়োগ ছিল ইতিবাচক, যার পরিমাণ ৬৪ কোটি টাকা। গত ৮ বছরের মধ্যে ৭ বছরই বিদেশিদের বিনিয়োগ ঋণাত্মক ছিল।