শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বড় দরপতনের পর বড় উত্থান, আবার তার পরদিনই ফের বড় পতন এমন অস্থির প্রবণতা দেখা দিয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। মুলত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব অর্থবাজারে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন ঘিরে শুরু হওয়া যুদ্ধে এশিয়া ও ইউরোপ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারেও বড় দরপতন দেখা গেছে।

ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এমনিক গত মঙ্গলবার ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সূচকের পতনের রেকর্ড হয়েছে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের কিছুটা পতন হলেও বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। কারণ আস্থা সংকট কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার।

এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে বিনিয়োগকারীদের। তেমনি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলো নির্বাচনী পরবর্তী বিএসইসি চেয়ারম্যান পরিবর্তন হবে। তবে নির্বাচনের প্রায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও বিএসইসি চেয়ারম্যান পরিবর্তন না হওয়ায় আস্থা সংকটে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা।

আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং ধাপে ধাপে ঈদের সময়ের ঘনিয়ে আসার কারণে ঈদের বাড়তি খরচ মেটাতে অনেক বিনিয়োগকারীই পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেন। ফলে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলতে শেয়ার বিক্রি করছেন, যার প্রভাব সূচকের সামান্য পতনে দেখা দিয়েছে।

তবে অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধিই বাজারের সুস্থ প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। অস্থিরতার মধ্যেই বেশিসংখ্যক কোম্পানির দাম বাড়ার মাধ্যমে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশিসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমলেও বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩২৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৮৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২৭ টির, দর কমেছে ১১২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪ টির। ডিএসইতে ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩০২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৫৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৪ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।