প্রফিট টেকিংয়ের চাপে পুঁজিবাজারে সূচকের মিশ্রাবস্থায় কমলো লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আতঙ্ক কেটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে প্রফিট টেকিংয়ের চাপে সূচকের মিশ্রাবস্থায় কমলো লেনদেন। তবে বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ঈদের পর পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়। এক কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৩১ পয়েন্ট কমে যায়। তবে চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস ১৩২ পয়েন্ট সূচকের উত্থান হয়।
এরপর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ১৪৮ পয়েন্ট সূচক বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। ফলে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ার তালিকায় থাকে বেশি কোম্পানি। তবে বড় মূলধনের বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দাম কমায় সূচকের বড় উত্থান হয়নি।
জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৯২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক .৮১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩৮ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৬ টির, দর কমেছে ৯৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৮৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪২ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



