বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দরকার স্থিতিশীল পুঁজিবাজার
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের টানা উত্থানে বাড়তে শুরু করছে আস্থা। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দরকার স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে।
সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। মূলত লেনদেনের শেষদিকে ক্রয়ের চাপে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ফলে দেশের ‘অর্থনীতির প্রাণভোমরা’ পুঁজিবাজার আরো গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হবে এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের। কারণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উত্তরণকালের নির্বাচনী ইশতোহারে সবার জন্য অর্থনীতির সুযোগ করে দিতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছে বিএনপি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বিনিয়োগের মাধ্যমই নয়, বরং শিল্প ও ব্যবসা খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম উৎস। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো সেই কাঙ্খিত স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। স্বচ্ছতার অভাব ও তথ্যের অসমতা এবং কিছু অসাধু গোষ্ঠীর কারসাজি প্রায়ই বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩০৮ টির, দর কমেছে ৩২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০ টির। ডিএসইতে ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১২৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪০ টির এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



