দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষনা করেছে। এ জন্য গত বছর শেষে সব মিলিয়ে কোম্পানিটি ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ ছিল অন্তবর্তীকালীন লভ্যাংশ, যা শেয়ারধারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে শেয়ারধারীদের গত বছরের জন্য প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করছে লাফার্জহোলসিম।
লাফার্জহোলসিম জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত লভ্যাংশ মিলিয়ে গত বছরের জন্য কোম্পানিটির শেয়ারধারীরা প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ৪ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। যার মধ্যে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ১৮ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি বিতরণ করেছে ২০৯ কোটি টাকার বেশি। আর চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে ২২ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা করে আগামী বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম শেষে বিতরণ করা হবে।

চূড়ান্ত লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটি বিতরণ করবে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা। লাফার্জহোলসিমের আজ বুধবারের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি গত বছরের চূড়ান্ত লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কোম্পানিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে লভ্যাংশ ও আর্থিক বিভিন্ন সূচকের তথ্য জানিয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শেষে লাফার্জহোলসিম সব ধরনের খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রায় ৫১১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০২৪ সালে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ৩৮২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে লাফার্জহোলসিমের মুনাফা ১২৯ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মুনাফায় ফেরার পর লাফার্জহোলসিম গত বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে ৫৯৪ কোটি টাকা, সেটি ২০২৩ সালে। এরপর গত বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা করে কোম্পানিটি। গত বছর কোম্পানিটি যে মুনাফা করেছে তার ৯১ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করবে কোম্পানিটি। বছর শেষে কোম্পানিটি যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তার ভিত্তিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ বাবদ যে অর্থ বিতরণ করবে তার মধ্যে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা পাবেন এটির দেশি বিদেশি উদ্যোক্তা পরিচালকেরা। কারণ, কোম্পানিটির শেয়ারের ৬৩ শতাংশের বেশি রয়েছে এসব উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির প্রায় ২২ শতাংশ শেয়ার।

এর বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী পাবে ১০২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির প্রায় ১৪ শতাংশ শেয়ার। এর বিপরীতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন ৬৫ কোটি টাকা। লভ্যাংশ বাবদ বাকি কয়েক কোটি টাকা পাবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের হাতে রয়েছে কোম্পানিটির প্রায় ১ শতাংশ শেয়ার।

লাফার্জহোলসিম বলছে, গত বছর সরকারি খাতে বিনিয়োগের মন্দা ও বেসরকারি খাতে কম ঋণ প্রবৃদ্ধির মধ্যেও কোম্পানিটি ভালো ব্যবসা করেছে। গত বছর কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট ও সুপারক্রিট প্লাসের মতো নতুন ব্র্যান্ডের পণ্য গত বছর কোম্পানিটির ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

লাফার্জ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০০৩ সালে। ওই সময় কোম্পানিটির নাম ছিল লাফার্জসুরমা সিমেন্ট। এটি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এখন পর্যন্ত একমাত্র গ্রিনফিল্ড কোম্পানি। অর্থাৎ কোম্পানিটি উৎপাদন শুরুর আগেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রায় হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী সিমেন্ট খাতের আরেক বিদেশি কোম্পানি হোলসিম কিনে নেয় লাফার্জ। পরে দুই কোম্পানি একীভূত হয়ে লাফার্জহোলসিম নামে কার্যক্রম শুরু করে।