পুঁজিবাজারে আতঙ্ক কেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেক্টর পরিবর্তনের আভাস
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের টানা উত্থানে বাড়তে শুরু করছে আস্থা। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা নিয়ে ফের বাজারমুখী হতে শুরু করছেন। এছাড়া পুঁজিবাজার ইস্যুতে অর্থমন্ত্রীর ‘বিশেষ নজর’ রয়েছে।
ফলে এখান থেকে বাজার খারাপ হওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। এছাড়া বেশকিছু ধরে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে পালো হাওয়া বইলেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রফিট টেকিংয়ের ফলে সেক্টর পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
তেমনি ঈদের আগে অথবা ঈদের পরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ কমিশনার পদে পরিবর্তন আসছে। সরকার আর্থিক খাতে সংস্কার ও কমিশন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিএসইসিতে নতুন মুখ নিয়ে আসবে। পুনর্গঠিত কমিশনে বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের স্থান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। খন্দকার রাশেদ মাকসুদ র নেতৃত্বাধীন কমিশন এখন বিদায়ের প্রহর গুনছে খলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ফলে এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দরকার স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়ে আসছে। ফলে স্থিতিশীল পুঁজিবাজার এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘদিনের দাবী নির্বাচিত সরকার পুরন করবে বলে তাদের বিশ্বাস।
এছাড়া পুঁজিবাজার বহুদিন ধরেই একটি স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় ছিল সরকার কি সত্যিই পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছে? অবশেষে সেই প্রত্যাশার জায়গায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে পুঁজিবাজার ইস্যুতে অর্থমন্ত্রীর ‘বিশেষ নজর’ দেওয়ার ঘোষণা বাজার সংশ্লিষ্টসহ সব মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
কারণ দীর্ঘদিনের মন্দা, তারল্যসংকট, আস্থাহীনতা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হতাশা সব মিলিয়ে বাজার যেন এক অচলাবস্থায় আটকে ছিল। এমন সময়ে অর্থমন্ত্রীর সক্রিয় মনোযোগের বার্তা বাজারে মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তাঁদের ভাষায়, পুঁজিবাজারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সুস্পষ্ট অবস্থানই সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ আর্থিক নীতিনির্ধারকের সরাসরি নজরদারি কেবল আশ্বাসই নয় এটি নীতিগত সংস্কার, তারল্য সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ইঙ্গিতও বহন করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট কাটাতে সরকারের দৃশ্যমান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত কিছু কার্যকর পদক্ষেপ ঘোষণা করা গেলে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে। যেমন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা শিথিলকরণ,
ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ দেওয়া এবং নজরদারি জোরদার করা। পাশাপাশি দ্রুত বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ কমিশনার পদে পরিবর্তন আসা। ফলে এ গুলো অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলতে শুরু করবে। তেমনি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, শিগগিরই পুঁজিবাজার বান্ধব কিছু সিদ্ধান্ত বা কর্মপরিকল্পনা সামনে আসতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে ‘বিশেষ নজর’ শব্দবন্ধটিই আপাতত বাজারে আশাবাদের হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। সাধারণত প্রতিবারই সরকার পরিবর্তনের পর আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সব সরকারই এসব পদে তাদের অনুগত ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করতে চায়। এ সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়।



