পুঁজিবাজারে বিদেশিদের পছন্দের তালিকায় ২৬ ব্লু-চিপ কোম্পানি
মনির হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন বিক্রিমুখী অবস্থান থেকে সরে এসে তারা এখন শেয়ার ক্রয়ে সক্রিয় হচ্ছেন। ফলে নতুন করে বাজার নিয়ে আস্থা বাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের।
কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন বা ব্লু-চিপ ২৬ কোম্পানির শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বড় প্রতিফলন দেখা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোতে বড় অঙ্কের বৈদেশিক পুঁজি যুক্ত হয়েছে, যা বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে গতির সঞ্চার হয়েছে। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে বিদেশি বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এক মাসে তারা কোম্পানিটির প্রায় ১৬০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। এতে কোম্পানিটিতে বিদেশি শেয়ার ধারণের হার ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিনিয়োগের দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকটির প্রায় ১১০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে ব্যাংকটিতে বিদেশি মালিকানা ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ দশমিক ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সেও বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইর তথ্য বলছে, গত মাসে বিদেশিরা মোট ২৬টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে এ মাসে তারা প্রায় ২৮০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। মারিকো বাংলাদেশ, এনভয় টেক্সটাইলস, ওয়ালটন হাই-টেক এবং ইউনিক হোটেলের মতো শক্তিশালী কোম্পানিগুলোতেও বিদেশিদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান পুঁজিবাজারে মোট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ৩৬০টির বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৩২টিতে বিদেশের উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হাতে গোনা কয়েকটি শেয়ারেই তাদের পুঁজি সীমাবদ্ধ রাখছেন। এছাড়া করপোরেট সুশাসন ও নীতিগত কিছু জটিলতা দূর করা গেলে এই বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব।
বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৯ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত মূলধন ফিরিয়ে নেওয়ার (প্রত্যাবাসন) ক্ষেত্রে পূর্বানুমতির সীমা ১০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে এই নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং নতুন ক্যাশ ফ্লো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিদেশীদের বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বিদেশিদের সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ায়, যা নতুন বিনিয়োগে সহায়ক ভূমিকা রাখে।



