আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা। চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ২০২৪-২৫ সাল পার করেছে পুঁজিবাজার। কয়েক বছর ধরে চলমান বৈশ্বিক অনৈতিক মন্দা, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে গত বছর মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি পুঁজিবাজার। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়তে হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

এমন পরিস্থিতির স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারে গতিশীল করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিএনপি সরকারের হাত ধরে পুঁজিবাজার যেন ঘুরে দাঁড়ায়। হারানো পুঁজি যেন ফিরে পান বিনিয়োগকারীরা।

ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা চার কার্যদিবস উত্থানের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক কয়েকদিনের উত্থানের পর দর সংশোধন হওয়া বাজারের জন্য স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক লক্ষণ। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেন কমিয়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ঈদের আগ পর্যন্ত বাজারে লেনদেন কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে ঈদের পর বাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল রিজভী বলেছেন, গত বছর পুঁজিবাজারে অনেক খারাপ সময় গেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটের কারণেই বাজারে এই মন্দা অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে আশা করি নতুন সরকারের হাত ধরে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩১৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭১ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪৩ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৯ টির, দর কমেছে ২৪৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫ টির। ডিএসইতে ৫২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৬৮ কোটি ৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৮৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫১ টির এবং ১৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।