বিএসসির চারটি জাহাজ ক্রয়ে ৪৮৬ কোটি টাকার অসঙ্গতি, অনুসন্ধানে দুদক
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে শিপিং করপোরেশনের চারটি জাহাজ ক্রয়ে ৪৮৬ কোটি টাকার অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক। সেই সঙ্গে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
গত রোববার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন এই তিন সংস্থায় অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংস্থার উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপপরিচালক তানজির হাসিব সরকার, সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ ও আবু বকর সিদ্দিক।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের চারটি জাহাজ ক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত কেনা হয় মাত্র চারটি। এতে ওই প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
জাহাজগুলো কেনার সময় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে বিষয়টি পৃথকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের আরও কিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসে, তিনি শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি দীর্ঘমেয়াদি অপরিশোধিত তেল পরিবহন চুক্তি সম্পাদন করেন, যেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ মার্কিন ডলার পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়। এর ফলে বার্ষিক ভিত্তিতে কয়েকশ’ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যায়ের সম্ভাব্য চিত্র প্রতীয়মান হয়।
অন্যদিকে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দেও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলবসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় খুব শিগগিরই মামলার সিদ্ধান্তে যাবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের বিশ্লেষণে আরও ওঠে এসেছে, উল্লিখিত প্রকল্প ও চুক্তিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের পারিবারিক সদস্যদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চমূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রয়, শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে। এসব ব্যয়ের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দুদক উল্লেখ করেছে।



