দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার পাওনা দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কাছেও পাওনা টাকা আদায়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার  বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। বৈঠকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আটকে থাকার বিষয়টি গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে তুলে ধরে দ্রুত তা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জনতা ব্যাংকের কাছেও পাওনা রয়েছে, সেটি আদায়ে গভর্নরের সহায়তা চান। এ সময় গভর্নর এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। গভর্নর জানান, বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ করে তার স্থলে হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে নামে–বেনামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকটিকে বড় সংকটে ফেলে।

২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। এ সময় শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দেশত্যাগ করেন। এটি ছিল ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের সঙ্গে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে প্রথম বৈঠকে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় খুব ভালো অবস্থানে থাকলেও মাঝখানে গভর্ন্যান্সে ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ইসলামী ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত ছিল। এখন থেকে কোনো গ্রুপ, দল বা পরিবারের হয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ার মালিকানার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে থাকা আটটি ব্যাংকের মধ্যে চারটি ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

এর মধ্যে চারটি ব্যাংক থেকে কাগুজে ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে ৯৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলো থেকে প্রভাব খাটিয়ে সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এসব ঋণ গ্রহণ করে।