মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে সংশয় পুঁজিবাজারে ফের সূচকের বড় দরপতন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতির ঘোষনায় চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থান হলেও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় দেশের পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব।
তবে যুদ্ববিরতি ভেঙ্গে যাওয়ার শঙ্কায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে এখনো থেমে থেমে যুদ্ধ চলছে। এর আগে ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর গত বুধবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু যুদ্ধতিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল ব্যাপক বোমা হামলা চালায় লেবাননে। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আবার সংশয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে বড় উত্থানের পর পুঁজিবাজারে ফের বড় দরপতন হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০ টির, দর কমেছে ৩০৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪ টির। ডিএসইতে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৫৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৫টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৬৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৪ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



