শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থানে শেষ হয়েছে। ফলে লভ্যাংশ মৌসুমে হঠাৎ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ভর করে লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি টাকার বেশি।

ফলে দরপতনের এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বাজারে আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যার ফলে সূচকের ওঠানামায় মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাবও ছিল স্পষ্ট।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু দুপুর ১২টার পর ঢালাও দরপতন দেখা দেয়।

তবে এর মধ্যেও বড় মূলধনের কিছু প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে বীমা খাতের শেয়ারের গত দুইদিন ধরে দাম বাড়ার তালিকায় দাপট দেখানো বিমা খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। বিমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ১৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু বড় মূলধনী শেয়ারের দর বাড়ায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক বৈচিত্র্য থাকায় সূচকে একক ধারা দেখা যায়নি। দিন শেষে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও কমেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির, যা বাজারে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫৩০৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১০৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২০১৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির, দর কমেছে ২৫১টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৫৬ কোটি টাকার।