দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ১২ লাখ টাকার একটি ব্যাংক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ব্রোকারেজ হাউজ ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং মো. দিদারুল ইসলামের মধ্যে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। উভয় পক্ষই ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছে। মামলার নথি, প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক তথ্য, ইমেইল যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১২ মে ২০২৪ তারিখে মো. দিদারুল ইসলাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন।

দিদারুল ইসলামের দাবি, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্দেশ্যে তিনি ওই অর্থ জমা দিয়েছিলেন। তবে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের দাবি, দিদারুল ইসলাম তাদের কোনো নিবন্ধিত গ্রাহক নন এবং তার নামে প্রতিষ্ঠানে কোনো বিও অ্যাকাউন্টও নেই।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ পরে নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রেডিং কোডে স্থানান্তর করা হয়। এ বিষয়ে তারা আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, আব্বাস আলী পূর্বে ‘ইস্টার্ন শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড’ এর লোহাগাড়া ডিজিটাল বুথের ইনচার্জ হিসেবে কাজ করতেন।

ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ বলছে, আব্বাস আলী তাদের কর্মকর্তা ছিলেন না; বরং কিছু গ্রাহকের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ (POA) হোল্ডার হিসেবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ইমেইল রেকর্ডে দেখা যায়, টাকা জমা হওয়ার পর তিনি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো এক ইমেইলে নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডিং কোডে অর্থ জমার নির্দেশ দেন।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট ট্রেডিং অ্যাকাউন্টগুলোতে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১০ মাস পর গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারীদের ব্যাংক হিসাবে ইএফটিএন (EFTN)-এর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ওই অর্থের কোনো অংশ সংরক্ষিত নেই।

বিবাদীপক্ষের সরবরাহ করা একটি চুক্তিনামার বরাত দিয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মো. দিদারুল ইসলাম ও আব্বাস আলীর মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল এবং কয়েক দফায় আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ১২ লাখ টাকার বিষয়টিও ওই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সম্পর্কের অংশ। এ বিষয়ে মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, এটা নিয়ে আমি কোনো তথ্য দিতে পারব না। যা বলার, আমার আইনজীবী আদালতেই বলবেন।

ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ জানায়, বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ কাউছার আল মামুন গত বছরের ১ জুন মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এছাড়া লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) একটি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিও অ্যাকাউন্ট ছাড়া সরাসরি কোনো ব্রোকারেজ হাউজের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তারা বলেন, পুঁজিবাজারে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, নিবন্ধিত বিও অ্যাকাউন্ট এবং নির্ধারিত ট্রেডিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও বাজারের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।