‘দুই আত্মীয়কে’ নিয়োগে ডিএসইর এমডি আইন ভঙ্গ
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারের ‘দুই আত্মীয়কে’ নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর ভেতরে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। মুলত ২০১০ সালের পর ডিএসইতে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে মোহাম্মদ রকিবুল হাসান পারভেজ ও পৃথুলা হৃদি এক্সিকিউটিভ পদে যোগ দেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ডিএসইর বর্তমান এমডির আত্মীয়। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ। এছাড়া তাদের নিয়োগের জন্য কোনো পত্রিকায় বা ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএসইর কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১০ সালের পর প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি, আবেদন গ্রহণ এবং নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। সে বিবেচনায় সাম্প্রতিক এই নিয়োগ ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ডিএসইর ইতিহাসে প্রথম নারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন নুজহাত আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করপোরেট সুশাসনের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
ডিএসইর একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটি (এনআরসি) নিয়োগ দুটির বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমিটির আনুষ্ঠানিক মতামত বা অনুমোদনও নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। যদিও এ বিষয়ে এনআরসির কোনো সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডিএসইর এক কর্মকর্তা বলেন, নিয়োগটি কী প্রক্রিয়ায় হয়েছে, তা নিয়ে ভেতরে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়নি।
এদিকে ডিএসইর অভ্যন্তরে জনবল পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ হচ্ছে। সম্ভাব্যভাবে ২৮ জন কর্মকর্তার একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। অভিযোগ রয়েছে, শূন্য হওয়া পদগুলোতে নতুন লোক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএসইর একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের ভেতরেও আলোচনা হয়েছে। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডিএসইর এমডি নুজহাত আনোয়ারকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ রকিবুল হাসান পারভেজ ও পৃথুলা হৃদিকে ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন হয় না বলেও তিনি দাবি করেন। নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা এমডির আত্মীয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ তথ্য সঠিক নয়। তারা আগে ডিএসইতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছেন।



