শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বীমা খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারে সূচকের দরপতন হয়েছে। কারণ মূলধনের দিক থেকে এগিয়ে থাকার কারণে বীমা খাতের মূল্যবৃদ্ধি যেমন সূচককে দ্রুত বাড়িয়ে দেয় তেমনি এদের দরপতনের দ্রুত প্রতিফলন ঘটে দিনের সূচকে। ফলে গত দুই কার্যদিবস সূচকের দরপতনে বাজার নিয়ে কিছুটা দু:চিন্তায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এমনকি সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের শেষদিকে বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ার দামে ঢালাও দরপতন হয়। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্যান্য খাতেও। এতে দাম কমার তালিকায় বেশির কোম্পানি থাকার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন বীমা খাতের কোম্পানির মধ্যে ১৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৩৯টির দাম কমেছে। বাকি ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইর খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনে বস্ত্র, ভ্রমন ও অবকাশ, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা গেছে। তবে বীমা খাতসহ অধিকাংশ খাতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা থাকায় বাজারে বিক্রির চাপ প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হলেও দিনশেষে পতন দিয়ে শেষ হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক কার্যদিবসের সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকার পর পতনকে বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই সূচকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ অব্যাহত থাকলে এবং লেনদেন ১ হাজার ওপরে ধরে রাখতে পারলে বাজারের ইতিবাচক ধারা আবারও শক্তিশালী হতে পারে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫ টির, দর কমেছে ১৯২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৮৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৪৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ১০৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৫ টির এবং ৩৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।