পুঁজিবাজারে সেক্টর রোটেশনে স্থিতিশীলতার আভাস, লেনদেন ছাড়াবে ২ হাজার কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে ভর করে সূচক ও লেনদেনের উত্থান হয়েছে। তবে বর্তমান বাজার সেক্টর রোটেশনে স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে। বাজার ঘুরে ফিরে সব সেক্টরে মুভমেন্ট করছে। এছাড়া বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুঁজিবাজার দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মুলত বাজার ঘুরে ফিরে সব সেক্টরে মুভমেন্ট করার চেষ্টা করছে। এতে বাজারের প্রতি আস্থা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। গত জুলাই মাসের শুরু থেকে উঠানামার মধ্যে দিয়ে স্থিতিশীল হচ্ছে পুঁজিবাজার। বাজারের চলমান এ ধারা অব্যাহ থাকলে শিগগিরই লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। মুলত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের এখন বুঝে শুনে শেয়ার ক্রয়ের উত্তম সময়। কারণ বিদেশি বিনিয়োগ সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সহায়ক পদক্ষেপ এবং খাতভিত্তিক গতিশীলতা সব মিলিয়ে বাজারে একটি ধীরে ধীরে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়া চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও সরকারের স্থিতিশীলতার বার্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সহায়ক অবস্থান বাজারের গতি ধরে রাখতে সহায়ক হবে। এই উত্থান বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং সামনের দিনগুলোতে বাজার আরো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএসইর খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড, টেক্সটাইল, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত, ওষুধ ও রসায়ন খাতে বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকায় প্রধান সূচকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে বাজারজুড়ে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে অধিকাংশ খাতেই ইতিবাচক মনোভাব বজায় ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে সূচক ও লেনদেনের ধারাবাহিক উন্নতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বড় মূলধনি ও বীমা মিউচুয়াল ফান্ড, বস্ত্র খাতের মৌলভিত্তিক শেয়ারে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ বাজারকে স্থিতিশীল ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো ও বাজারে তারল্য ধরে রাখা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি। কোম্পানিটির ৬৯ কোটি ৭৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ৪৪ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার। ৩৬ কোটি ৫২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে মালেক স্পিনিং মিলস্ পিএলসি।
এছাড়া ডিএসই শেয়ার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। কোম্পানিটি ৩ হাজার ৯৭৭ বারে ৪৯ লাখ ২০ হাজার ১৬১ টি শেয়ার লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
তালিকায় ২য় স্থানে থাকা সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৪ বারে ৩৪ লাখ ১২ হাজার ৬৫৮ টি শেয়ার লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তালিকার ৩য় স্থানে থাকা ইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। ফান্ডটি ২৪৬ বারে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৪৪ টি ইউনিট লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ৮৩ লাখ টাকা।



