আলমগীর হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনে ন্যুব্জ দেশের পুঁজিবাজার। ফলে দিনই যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারের হাহাকার ততই বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ মানেই লোকসান। যার ফলে পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা বিরাজ করছে। ‘অদ্ভুত’ এমন পুঁজিবাজার ৩০ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়নি বলে বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ বেড়েছে। তাছাড়া মাসুদ কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখন আস্থা ফেরাতে পারেনি পুঁজিবাজার। বরং আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা যেটুকু ছিল তাও সংকটে পড়েছে। ফলে দিন দিন বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।

এছাড়া গত এক মাসের বেশি সময় ধরে টানা দরপতন ও তারল্য সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবের কারণে পুঁজিবাজার বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ বা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কারের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হয়নি বরং গত এক মাসে ডিএসইর সূচক উধাও ৫২৩ পয়েন্ট। এছাড়া পুঁজিবাজারে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ একেবারেই নেই বলে চলে। এমনকি দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ৪ শত কোটি টাকার ঘরে চলে আসছে। এমনকি ক্রেতার অভাবে শেয়ার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

এছাড়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনকে ব্যর্থতার দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে অপসারণ করা হয়। এরপরে গত ৪ জুন মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান করে কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম দুই মাস সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা দরপতন শুরু হয়। অনেকটা মাকসুদ খান দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক যে অবস্থায় রেখে গেছেন, তার চেয়েও অনেক তলানিতে নেমেছে।

মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত ৩ জুন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫৪৪২ পয়েন্ট। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইএক্স ৫৩৭৯ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। বরং রাশেদ মাকসুদ কমিশনের চেয়ে ৬৬ পয়েন্ট সূচক কমেছে মাসুদ কমিশনের।

ফলে গত চার মাসের কাছাকাছি বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসাবে মাসুদ খান দায়িত্ব নিলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কতটুকু সফল হয়েছেন এ প্রশ্ন এখন হাজার হাজার বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে দেখা দিয়েছে।  বরং বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বিনিয়োগ করা পুঁজি হারানোর শঙ্কা পেয়ে বসার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্রমান্বয়ে পুঁজিবাজার ডুবতে বসেছে।

জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেন শেষে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। আর টাকার অঙ্কে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিন শেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ২৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগেরদিন লেনদেন হয়েছিল ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আজ ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৩৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৬ টির এবং ৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।