দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন চার স্বতন্ত্র পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনায় রোববার পদত্যাগ করেন তারা। পদত্যাগ করা চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ ও পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং এফসিএ সনদধারী হিসাববিদ মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম ও কেডিএস গ্রুপের হাতে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আগের পর্ষদ বাতিল করে এই চার পরিচালকসহ পাঁচ সদস্যের পর্ষদ নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন স্বতন্ত্র পরিচালকদের সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকটিতে কেডিএস গ্রুপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পদত্যাগকারী এক পরিচালক জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি পদত্যাগের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ কেডিএস গ্রুপের হাতে হস্তান্তরের। সেই নির্দেশনার পর চার স্বতন্ত্র পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। একজনকে আপাতত রেখে দেওয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক যৌথভাবে পরিচালনা করত এস আলম ও কেডিএস গ্রুপ। তখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের ভাই আবদুস সামাদ লাবু এবং কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাদের অপসারণ ও পর্ষদ ভেঙে দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকরা দায়িত্বে এসে দেশি-বিদেশি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিপত্র ও লেনদেন পরীক্ষা করান। এই বিশেষ নিরীক্ষায় (স্পেশাল অডিট) বিগত আমলের বহু অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পক্ষ তৎপর হয়ে ওঠে। একদিকে কেডিএস গ্রুপ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাওয়ার দাবি জানায়। অন্যদিকে শেয়ারধারী আরেকটি পক্ষ পর্ষদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য সোচ্চার হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোনো ১৪ জন শেয়ারধারীকে ব্যাংকটির পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগ দেয়। পুনর্গঠিত পর্ষদে সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। কেডিএস গ্রুপের সেলিম রহমানকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেশাদার ও নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র পরিচালকদের উপস্থিতি এবং অডিট রিপোর্টের কঠোর অবস্থানের কারণে পর্ষদের প্রভাবশালীরা ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। এই বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বতন্ত্র পরিচালকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে চার পেশাদার পরিচালককে বিদায় নিতে হলো।