বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে ডাইরেক্ট লিস্টিং চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে এই ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি বিকল্প সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিএসইসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে কমিশন। খসড়াটি জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। অতি শিগগিরই বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানি নিজে নতুন শেয়ার ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করবে না। বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে কোম্পানিটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন অর্থের প্রয়োজন না থাকা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তির একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে।

বিএসইসি বলছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ তৈরি হবে। এতে পুঁজিবাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়তে পারে। তবে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী যোগ্য কোম্পানিগুলো এই ব্যবস্থায় তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। অর্থাৎ সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একইভাবে এই সুযোগ প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে চাওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিওর পথ চালু থাকছে। বর্তমানে যেসব কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে আগ্রহী, তাদের বিদ্যমান ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের জনসাধারণের কাছে প্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

আইপিওতে এরই মধ্যে আবেদনকারী বা আবেদন করতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতে বিধিমালার পরিবর্তনের অপেক্ষায় আবেদন স্থগিত বা বিলম্ব না করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। পরবর্তী সময়ে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকেও সেই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বিএসইসির মতে, কোম্পানির প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সুযোগ আলাদা করা হলে প্ুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে। নতুন মূলধন প্রয়োজন হলে আইপিও এবং নতুন মূলধনের প্রয়োজন না থাকলে বিদ্যমান শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে ডাইরেক্ট লিস্টিং এই দুই পথের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

পুঁজিবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়িয়ে একটি গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাজার গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।