পুঁজিবাজারে টানা ৩ কার্যদিবস পর সূচকের উত্থান হলেও লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটছে না। কারণ এর আগে টানা তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর টানা তিন কার্যদিবস দরপতন হয়েছে। ফলে আস্থা সংকটের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না পুঁজিবাজার। যার কারণে পুঁজিবাজারে উত্থান পতনের খেলা চলছে।
বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থিতিশীল বাজারের দাবী জানালে দীর্ঘ ১৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বছরের পর বছরে টানা দরপতনে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীরা বাজারবিমুখ হয়ে পড়ছেন। মুলত ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার।
গত ১৮ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার চলছে সেই পুরানো উল্টো পথে।
ফলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ মাস পুঁজিবাজারের কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। কারণ পুঁজিবাজারে বারবার আস্থার সংকট, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীরা মনে করে বিএসইসির অদক্ষ্য ও অযোগ্য কমিশনের কারণে বেহাল দশা দেশের পুঁজিবাজারের।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা সর্তক অবস্থানে লেনদেন করছেন। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলেই প্রত্যাশা করছেন তারা। তবে অন্যান্য শ্রেণির মতো বিনিয়োগকারীরাও নির্বাচনের দিকেই নজর রাখছেন। তাদের আশা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের গতি বাড়বে এবং বাজারে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে কমেছে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৬ টির, দর কমেছে ১৮৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৫ টির। ডিএসইতে ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৯০ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৬৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৪ টির এবং ৩১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



