১২ কোম্পানির অবণ্টিত লভ্যাংশ বিতরণে গড়িমসি, নির্দেশনা উপেক্ষিত
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অদাবিকৃত লভ্যাংশ বিতরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা মানছে না পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলো অদাবিকৃত লভ্যাংশ বিতরণ না করে তা বছরের পর বছর রেখে দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রাপ্য বিনিয়োগকারী তার লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য। তাই এটি বিনিয়োগকারীদেরকেই ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এর সমাধান করতে হবে। কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ ঘোষণার পর বিভিন্ন কারণে একটি অংশ অদাবিকৃত থেকে যায়। অর্থাৎ অনেক বিনিয়োগকারী তার প্রাপ্য লভ্যাংশ নেন না। এটিকেই অদাবিকৃত লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিধি অনুযায়ী এই লভ্যাংশ কোম্পানিগুলো তার অধীনে তিন বছর পর্যন্ত নিজেদের কাছে রাখতে পারে। তারপরেও অদাবিকৃত থাকলে ভিন্ন একটি ফান্ডে তা স্থানান্তর করতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় প্রাপ্য লভ্যাংশ পাওয়ার আগেই শেয়ারহোল্ডার মারা যান। অথবা কোনো কোম্পানিতে থাকা শেয়ারের বিষয়ে ভুলে যান। পাশাপাশি পরিমাণে অল্প হওয়ার কারণে অনেক সময় বিনিয়োগকারী ওই লভ্যাংশ নিতে আগ্রহী হন না। এছাড়াও বিও একাউন্টে ব্যাংক একাউন্ট আপডেট না থাকাসহ প্রক্রিয়াগত কারণে অনেক সময় ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারী পান না।
কোম্পানিগুলোর অবন্টিত এসব লভ্যাংশ ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত হিসেবে থাকা দাবিহীন টাকা নিয়ে ২০২১ সালে একটি পৃথক ফান্ড গঠন করে বিএসইসি। বিধি অনুযায়ী, তিন বছরের বেশি সময় ধরে থাকা অদাবিকৃত লভ্যাংশ এই ফান্ডে স্থানান্তর করতে হবে।
অদাবিকৃত লভ্যাংশের বিষয়ে নির্দেশনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, এক্ষেত্রে অদাবিকৃত বা অনিষ্কৃত লভ্যাংশ যদি থাকে, এই লভ্যাংশ তিন বছর পর্যন্ত কোম্পানির কাছে থাকবে। এরপর এটা কোন বছরের, কার কতটুকু, বিও একাউন্ট, তার নাম, নমিনি ও বিস্তারিত তথ্যসহ প্রথমে তার ওয়েবসাইটে একবার প্রকাশ করবে।
তার পরেও যদি কেউ এটা না নেয় তাহলে পুরোটা ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তর করতে হবে। তবে অদাবিকৃত লভ্যাংশ নিয়ে এমন বিধান অনেক কোম্পানিই অনুসরণ করছে না। কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ লভ্যাংশ না দেওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। নিরীক্ষকদের মতে, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আদেশের পরিপন্থী এবং কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতিকেই নির্দেশ করে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এসব কোম্পানিতে অদাবিকৃত লভ্যাংশ বিতরণ না করে বছরের পর বছর এভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফরচুন সুজের ১০ কোটি ৫ লাখ, ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের ২ কোটি ৬১ লাখ, ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের ১ কোটি ৪৮ লাখ, কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেডের ৩২ লাখ ৬৮০ টাকা, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের ৩৫ লাখ ২১ হাজার,
সাফকো স্পিনিং মিলসের ১১ লাখ ৩১ হাজার, ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেডের ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১৯ লাখ ৮৪ হাজার, ওরিয়ন ফার্মার ২৮ কোটি ৪৪ লাখ, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের ৪৯ লাখ এবং ইনফরমেশন সার্ভিসের ২৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার অদাবিকৃত লভ্যাংশ রয়েছে। এছাড়া জুট স্পিনার্সের অদাবিকৃত লভ্যাংশের পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি।
এই সংখ্যা শুধু এই ১২টি কোম্পানিতেই সীমাবদ্ধ নয়, আরও অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে একই চিত্র রয়েছে। এসব লভ্যাংশ তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে কোম্পানিগুলোতে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১৪ বা ১৫ বছরের মতো দীর্ঘ সময়ে অদাবিকৃত হিসেবে পড়ে রয়েছে।



