শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ মন্দা আর অনিশ্চয়তার পর দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। টানা কয়েক মাস ধুঁকতে থাকা বাজারে হঠাৎ সূচকের উল্লম্ফন ও লেনদেনের মাত্রা বাড়ায় অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। মুলত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে টানা চার কার্যদিবস সূচকের উত্থানে লোকসান কাটিয়ে আবারও মুনাফার প্রত্যাশায় সক্রিয় হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। মুলত পুঁজিবাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো।

কারণ টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে থাকার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেক্সিমকো। ক্রেতা ফেরায় কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। সেই সঙ্গে সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। এদিন একই সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ডিএসই লেনদেন বেড়ে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গুজব নির্ভর লেনদেন থেকে সরে এসে বিনিয়োগকারীরা ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। এখন অনেক বেশি সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করছেন। এছাড়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বাড়তি নজরদারীতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া আর মাত্র দুইদিন পরই অধিকাংশ খাতের কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হবে। ফলে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে তাদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সংশোধনও একটি অপরিহার্য বিষয়। আগের সপ্তাহে বাজারে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটলে মূল্যস্তরে যে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে তা থেকে বিনিয়োগকারীর একটি অংশ অবশ্যই মুনাফা তুলে নেবেন।

আর এটাই সপ্তাহের প্রথম দকে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু মুনাফা তুলে নেয়া শেষ হলে ফের স্বাভাবিক আচরণে ফিরতে শুরু করছে পুঁজিবাজার। যার ফলশ্রুতিতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থান হয়েছে। মুলত ভালো ও মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন, যা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩ টির, দর কমেছে ১৩৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৩৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬১ টির এবং ৩২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।