বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মুনাফা তোলার চাপের মুখে পুঁজিবাজার, সূচক কমেছে ৪৩২ পয়েন্ট
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে টানা দরপতনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে। মুলত বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধাবস্থার অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারেও।
ফলে চলতি সপ্তাহে চার কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে ৪৩২ পয়েন্ট সূচকের পতন হয়েছে। মুলত এ পতনের পিছনে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা শুধু তাই নয় পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলতে কারসাজি চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চক্রটি পুঁজিবাজারের সূচকে প্রভাব ফেলতে পারে (ইনডেক্স মুভার স্ক্রিপ্ট), এমন কোম্পানির শেয়ার চিহ্নিত করে তা কম দামে বিক্রির চেষ্টা করছে।
মূলত কম দামে ইনডেক্স মুভার শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করতে কারসাজি চক্র এ অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন চলছে। তবে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে এখনই বিএসইসি চেয়ারম্যানের পরিবর্তনের বিকল্প নেই। কারণ বিএসইসি চেয়ারম্যানের পরিবর্তন কেন্দ্র করে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। তেমনি বিএসইসি চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে ১৩৮ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। এই দরপতনের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বিএসইসি চেয়ারম্যানের পরিবর্তনের খবরে ৭২ পয়েন্ট সূচক বাড়ে। এরপর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে সূচকের ২০৮ পয়েন্ট দরপতন হয়। ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে বড় ধরনের দরপতন না হলেও দিনশেষে সূচকটি কমে ২ পয়েন্ট।
সর্বশেষ সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ব্যাংক ও আর্থিক খাতের মুনাফা তোলার চাপে ৮২ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধাবস্থার অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রমজান মাসে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে খুব একটা ইতিবাচক পরিবেশ দেখা যায়নি।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫২ টির, দর কমেছে ৩০৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির। ডিএসইতে ৪৫৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৩৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৯ টির এবং ১৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



