মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ইস্যু নয় পরিকল্পিত ভাবে পতন ঘটিয়ে ফায়দা লুটছে কারা
আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং পাল্টা হিসেবে ইরানের আকাশপথের অভিযানে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে হামলার জেরে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে দরপতনের ইস্যু শুধু যুদ্ধ নয়, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন ইস্যুকে কেন্দ্র করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ দীর্ঘদিনের ‘কারসাজি’র ভীতিতে পুঁজিবাজার বিমুখ হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারসাজির শেয়ারের দাপটে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ারও বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম পড়ছে। যার ফলে বড় পতন থামছে না দেশের পুঁজিবাজারে। মুলত চলতি সপ্তাহে দুই কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লাগামহীন পতন যেন রীতিমতো তান্ডবে পরিণত হয়েছে। ফলে সবার মাঝে একটাই প্রশ্ন এই পতনের শেষ কোথায়, এই কারসাজিতে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা উচিত।
একাধিক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, দেশে যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল, অজানা অর্থনৈতিক শঙ্কা ছিল; তখনও পুঁজিবাজারে এই রকম পতনের তান্ডব দেখা যায়নি। এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, নির্বাচনী সরকার ক্ষমতায় এবং অর্থনীতিও ভালোর দিকে যাবে তারপরও পুঁজিবাজার নেমে এসেছে অশনি সংকেত।
মুলত সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের রেকর্ড পরিমান দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ২০৯ পয়েন্ট। তবে এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছিল ১৩৮ পয়েন্ট। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে পুঁজিবাজার ৭২ পয়েন্ট সূচক বাড়লেও তৃতীয় কার্যদিবসে রেকর্ড পরিমান দরপতন হয়েছে।
ফলে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে ৩৪৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। মুলত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, যদি বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে অতিরিক্ত বিক্রি না করে, বাজার দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বিক্রেতার চাপের কারণে সূচক দিনের শেষে বড় পতনের মুখে শেষ হয়, যদিও কিছু ক্রেতা সক্রিয় হওয়ায় হ্রাসের গতি কিছুটা কমে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আশা করি খব দ্রুত কেটে যাবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের পতন আগেই চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আল আমিন বলেন, পুঁজিবাজারে যে ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে যুদ্ধের ইস্যু মনে হচ্ছে না। বিএসইসির পরিবর্তন যারা ত্বরাম্বিত করতে চায়, মার্কেট সংশ্লিষ্ট কোনো একটি চক্র বাজারে ভীতি তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে এ কাজটা করছে বলে মনে হচ্ছে।
তারা মূলত বিএসইসিতে পরিবর্তন চায় এমন একটি ইস্যু তৈরি করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা চেষ্টা করছে। ইরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের তেমন কানেক্টিভিটি নেই। যুদ্ধের সঙ্গে কানেকশন থাকলে সোমবার তো বাজার ঘুরে দাঁড়াত না এটা পরিস্কার।



