শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ‘প্যানিক সেল’ সূচকের পতনের কারণ
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে চলতি সপ্তাহে টানা চার কার্যদিবস দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক বিরাজ করেছে। ফলে ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ১৯০ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। মুলত শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ‘প্যানিক সেলে’ সূচকের বড় পতনের কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাজার সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারের এহেন আচরণের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
এছাড়া নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাস যেতে না যেতেই টানা দরপতন নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের কারণ কী নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। তেমনি বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
এছাড়া শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। ফলে সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২২০ পয়েন্টে। এর আগে সূচকটি ছিল ৫,৩১৬ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএসই ৩০ সূচক কমেছে ৩৯ পয়েন্টের বেশি, যা নেমে এসেছে ১,৯৮০ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচকও ১৪ পয়েন্ট কমে ১,০৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭২টির দাম বাড়লেও ২০৬টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম এবং ২২টির কোনো লেনদেন হয়নি। মুলত সূচকের পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানির শেয়ার, যেমন ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। তবে সূচক কমলেও লেনদেনে গতি ছিল। সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বিক্রির বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। মুলত শীর্ষ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকের পতন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবসে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে বাজারে ‘প্যানিক সেল’ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের আচরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে জানান তিনি।
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, ওষুধ ও রসায়ন খাত সবচেয়ে বেশি লেনদেন আকর্ষণ করেছে, মোট লেনদেনের ১৬.৬ শতাংশ। এরপর প্রকৌশল খাতের অংশ ১২.৪ শতাংশ। বস্ত্র ও ব্যাংক খাত প্রায় সমান অংশ নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ বীমা খাতের অংশ ছিল ৭.৩ শতাংশ। রিটার্নের দিক থেকে বেশিরভাগ খাতেই নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩.৯ শতাংশ দরপতন হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সিমেন্ট খাতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। পাশাপাশি ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎসহ আরও কয়েকটি খাতে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া সাধারণ বীমা ও সেবা-আবাসন খাতেও সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।



