শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এছাড়া সরকারের ওপর মহলের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে পুঁজিবাজারে। নিস্কিয় থাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজারে সক্রিয় হয়েছেন।

ফলে প্রতিদিনই অধিকাংশ কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। বাজারের এই অবস্থাকে স্বাভাবিক বলছেন বাজার বিশ্লেষকরা। মুলত সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে দেড়’শ পয়েন্টের বেশি। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল সতর্কতা, অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসায় বাজারে ক্রয়চাপ বেড়েছে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে মন্থরতা ছিল, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তা কাটতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ধীরে ধীরে বাজারে ফিরবেন বলে আশা করছি।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, পুঁজিবাজারে এই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে হলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আস্থার পরিবেশ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সূচক যেমন: মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতিও বাজারের গতি প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭ টির, দর কমেছে ১৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ টির। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। যা আগের দিন থেকে ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯৭ কোটি ০১ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১৮ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০২টি কোম্পানির লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৭৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮টির আর ৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।