পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আইনি সংস্কার, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমন বক্তব্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা।
ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়েছেন। যার ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে। এ সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে পুঁজিবাজারে সূচক পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতির খবরে পুঁজিবাজারে সামান্য সূচকের উত্থান হয়েছে। আশা করি যুদ্ধ বিরতি ঘটলে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হবে। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। তবে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থানে শুরু হয়। তবে লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এছাড়া লেনদেনের শুরুতেই শেয়ার ক্রয়ের চাপ শুরু হলেও দিনশেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৭১ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৭৫ টির, দর কমেছে ৭০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮ টির। ডিএসইতে ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৮৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৮৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭০ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



