স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি মেঘনা সিমেন্ট চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিটি ঋণখেলাপি হওয়ায় এলসি খুলতে পারছে না। বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামাল আমদানি। ফলে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ৩২ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে ২৯০ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানিটির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক। কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটির পণ্য বিক্রি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভয়াবহভাবে কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে বিক্রি হয়েছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার পণ্য, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোম্পানিটি নতুন এলসি খুলতে পারছে না। এতে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়েছে উৎপাদন। তবে অন্য কোম্পানির হয়ে উৎপাদন চালু রেখেছে মেঘনা সিমেন্ট। এ অবস্থায় কোম্পানিটির টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি (৩৬ দশমিক ৫৮) টাকা অর্থাৎ ১১৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ফলে পরিচালনা পর্ষদ ওই অর্থবছরের ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটির চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫-মার্চ ২০২৬) শেয়ারপ্রতি ৪৮ দশমিক ১৩ টাকা অর্থাৎ ১৫২ কোটি ৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে মেঘনা সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি ৭ দশমিক ১৬ টাকা অর্থাৎ ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এ হিসাবে গত ২ বছর ৯ মাসে (জুলাই ২০২৩-মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির লোকসান হয়েছে মোট ২৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এই লোকসানের কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৫১ দশমিক ৩৩ টাকা করে ঋণাত্মক হয়ে গেছে। কোম্পানিটিকে এ মুহূর্তে অবসায়ন করা হলে শেয়ারহোল্ডাররা এস আলমের আলোচিত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের মতো কিছুই পাবেন না।

ব্যবসায় এই ভয়াবহ ধসের কারণ হিসেবে মেঘনা সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে, ঋণখেলাপির কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হয়। ফলে কোম্পানি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি এবং মূলত কনভার্সন আয়ের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে, যা নিয়মিত উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম।

১৯৯৭ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা সিমেন্টের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪১.৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৪.৬১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৩.৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।