সায়হাম টেক্সটাইল স্পিনিং ইউনিট ১৮ মাস বন্ধ থাকার ঘোষণা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে লোকসান এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। তবে কোম্পানিটি বড় ধরনের আধুনিকায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত ১০ মে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাদের স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন আগামী ১ জুন থেকে বন্ধ করা হবে। প্রায় ১৮ মাস ইউনিটটি বন্ধ থাকবে। এ সময়ে পুরনো কারখানা ভবনের পুনর্নির্মাণ, নতুন স্বয়ংক্রিয় স্পিন্ডল মেশিন স্থাপন, কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক উৎপাদনের কাজ করা হবে।
তথ্য মতে, সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে স্পিনিং ইউনিটটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর মেলাঞ্জ ইউনিট ২০১৩ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। তবে গত কয়েক বছর ধরে পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে স্পিনিং ইউনিটে একের পর এক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।
উৎপাদিত সুতার মান কমে যাচ্ছিল। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতাও কমছিল। অন্যদিকে ব্যয় বাড়তে থাকায় ইউনিটটি থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গত ১০ মে অনুষ্ঠিত সভায় স্পিনিং ইউনিটের উৎপাদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপানশন) কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুবিধার্থে ইউনিটটির পুরনো যন্ত্রপাতি দ্রুত বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বন্ধ সময়ের মধ্যে কারখানার ভবন পুনর্নির্মাণ, নতুন আধুনিক স্বয়ংক্রিয় স্পিন্ডল মেশিন স্থাপন, কমিশনিং এবং পরীক্ষামূলক উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের টেক্সটাইল খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো প্রযুক্তিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্পন্ন সুতা সরবরাহে ব্যর্থ হলে রপ্তানি সক্ষমতাও কমে যায়। ফলে অনেক কোম্পানিকেই এখন আধুনিকায়নের পথে হাঁটতে হচ্ছে। কোম্পানিটির এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে কোম্পানির উৎপাদন ও আয়ে চাপ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসবে। কোম্পানিটিও একই আশা করছে, বিএমআরই সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এতে কোম্পানির টার্নওভার এবং মুনাফা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
তবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বলছেন, ১৮ মাসের দীর্ঘ উৎপাদন বন্ধের সময় কোম্পানির আর্থিক চাপ কেমন হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ উৎপাদন বন্ধ থাকলে আয় কমে যেতে পারে। আবার নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।



