দেড় মাসে উৎপাদন বন্ধ রিজেন্ট টেক্সটাইলের ৭০ শতাংশ দর বেড়েছে
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইলের উৎপাদনসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে ৪ বছরের বেশি সময় ধরে আর্থিক হিসাব বন্ধ রয়েছে। একপ্রকার কোম্পানিটির কোন হদিস নেই। তারপরেও সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমে যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে পায়নি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ৩ মে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর ছিল ৪.০০ টাকায়, যা ১৭ জুন লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬.৮০ টাকায়। অর্থাৎ দেড় মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২.৮০ টাকা বা ৭০ শতাংশ। এই দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ফলে কোম্পানিটির দর বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে।
এদিকে কয়েক বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইলের। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধের সাথে সাথে কোম্পানিটি থেকে ২০২০ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তিও বাদ হয়ে গেছে। এ কোম্পানিটি থেকে সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যবসায় ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
আর্থিক হিসাব প্রকাশ বন্ধের আগের ২ বছর লোকসান করে রিজেন্ট টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২০১৯-২০ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ০.৩১ টাকা করে মোট ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ও ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ১.৬২ টাকা করে মোট ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল।
২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭। এর ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৬১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



