শহীদুল ইসলাম,দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) নেতৃত্বের পরিবর্তন নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত দেড় দশকে বারবার চেয়ারম্যান ও কমিশন বদলেছে, বদলেছে প্রতিশ্রুতির ভাষা, পরিবর্তনের অঙ্গীকার এবং সংস্কারের রূপরেখা। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাজারে স্থিতিশীলতা আসেনি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, কারসাজি, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নীতিগত অস্থিরতার কারণে দেশের পুঁজিবাজার এক গভীর আস্থাহীনতার সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।

এই বাস্তবতার মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাঁদের সামনে যেমন সম্ভাবনা আছে, তেমনি রয়েছে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। তাই মাসুদ কমিশনের মূল কাজ পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো।

ফলে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি ছাড়া শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিএসইসি’র চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, শুধু প্রণোদনা দিয়ে ভালো কোম্পানি আনা যাবে না, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তাই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে মিউচুয়াল ফান্ডকে আবারও শক্তিশালী করা হবে।

এদিকে দেশে সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজার খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে। এ সময়ে সূচক ৩শ পয়েন্টেরও বেশি বেড়েছে। বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে উর্ধ্বমূখী প্রবণতায় বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় বিএসইসি নতুন কমিশন কিছুটা স্বস্তিতে উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। ২ বছরের বেশি সময় ধরে আইপিও শূণ্য পুঁজিবাজার। তাই ভালো কোম্পানির বাজারে আনতে দ্রুতই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পুজিবাজারের উন্নয়নে দ্রুতই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আইনেও বড় পরিবর্তন আসবে। লেনদেন বাড়াতে মার্জিন ঋণ নীতিমালায় সংশোধনী আসবে। পুঁজিবাজারে লেনদেন কোন হস্তক্ষেপ করবে না বিএসইসি। তবে বিনিয়োগে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হবে।