দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার সামনে আরও অনেক বড় হবে। কারণ বাজারে নতুন কোম্পানি আসবে, মাল্টিন্যাশনাল থেকে আসবে, লোকাল ভালো কোম্পানিগুলো থেকে আসবে আর হচ্ছে সরকারি কোম্পানিগুলো থেকে আসবে। এই তিন সোর্স থেকে সাইড বাই সাইড বন্ড মার্কেট আর সুকুক মার্কেট এগুলোতে উন্নতি হবে। ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের এই সমস্যা দূর করতে সরকারের সর্বোচ্চ মহলেরও এখন মূল অগ্রাধিকার পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করা। ব্যাংক খাতের সংকটের দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এখন ব্যাংকগুলাকে সব বিপদে ফেলেছে। এই যে ব্যাংকের ক্লাসিফাইড লোন, এগুলা তো ৯০ শতাংশ লং টার্ম লোন, যার মেয়াদ ১০ বছর ১২ বছর। উচিত ছিল পুঁজিবাজার থেকে নেওয়া।

আবু আহমেদ বলেন, নতুন কমিশনের চেয়ারম্যান অনেক জানেন। তিনি নিয়মগুলো সহজ করছেন, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা সামনে আশা দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপ ও নজরদারির প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুরো পৃথিবীতে সবসময় শেয়ার বাজারে সতর্কতা আছে। মার্কেটে আপস অ্যান্ড ডাউন থাকে, তবে জুয়াড়িরা যাতে বাজার নিয়ে খেলতে না পারে সে জন্য ডিএসইর সার্ভাইলেন্স (পর্যবেক্ষণ) ও আইনি ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা একটা ভালো দিক।

তবে মার্জিন লোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংস্কার এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্জিন লোন জেড এবং বি ক্যাটাগরিতে বন্ধ। এ ক্যাটাগরিতে তাও সেটা শর্ত সাপেক্ষে। এর ফলে আগের মতো খারাপ কোম্পানি নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ আর থাকবে না এবং বাজার ডিস্ট্রিবিউশন আরও ব্রড ও পার্টিসিপেটরি হবে।

এ ছাড়া বাজেটে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটোত্তর সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের ভীতি দূর করেছে। সরকারের ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাজেট পাশের সময় ফাইন্যান্স বিলে পুঁজিবাজারের জন্য অনেকগুলো ট্যাক্স রিলেটেড রিলিফ (কর ছাড়) দেওয়া হয়েছে।

যেমন: ব্যক্তি শ্রেণীর জন্য ডিভিডেন্ড ইনকামের (লভ্যাংশ আয়) ওপর চূড়ান্ত কর ১৫ শতাংশ করা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর কমানোর মতো অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাজারকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

৩ এর পাতা ২ কলাম