গাজীপুর, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: গাজীপুরে জুয়া খেলার সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় ও গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবক নিঁেখাজ রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি গাজীপুর মহানগরের ২১নং ওয়ার্ডের খালিশা বর্থা এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। তিনি ২১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। শুক্রবার সকালে মহানগরীর কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গাজীপুরের কারখানা বাজার এলাকায় তুরাগ নদীতে নৌকায় কয়েকজন ব্যক্তি জুয়ার আসর বসায়। হঠাৎ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সেখানে হামলা চালায় এবং এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে জুয়াড়িরা নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ ঘটনায় সাঁতরে সঙ্গের লোকজন তীরে উঠলেও মোয়াজ্জেম হোসেন নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং সাঁতরে তীরে উঠা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় নদী মোয়াজ্জেমের লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তবে নিহতের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোয়াজ্জেমসহ ৪-৫ জন ট্রলারে বসে ছিলেন। এ সময় ৫-৬ জন লোক এসে তাদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে তারা নদীতে ঝাঁপ দেন। তিন জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই দিন ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনও অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন এবং পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। ওই সময় তিন জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম উঠতে পারেননি। অথচ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি ভালো সাঁতার জানতেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।