‘বিবিএস ক্যাবলসকে দেশের নাম্বার ওয়ান কোম্পানি করতে চাই’
তৌফিক ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার বিবিএস গ্রুপ ও নাহি গ্রুপের চেয়ারম্যান। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিবিএস গ্রুপ দ্রুত বিকাশমান একটি গ্রুপে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপে সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) হিসাবে তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। এরপর প্রচণ্ড মেধাবী ও বিচক্ষণ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই ব্যবসায়ী ২০০৩ সালে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস্ লিমিটেড (বিবিএস)। বর্তমানে বিবিএস গ্রুপ ও নাহি গ্রুপে মিলে রয়েছে ১৩ প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে প্রথম তালিকাভুক্তি হয় বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড (বিবিএস)। এরপর ২০১৭ সালে বিবিএস ক্যাবলস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হয়। ইতোমধ্যে কোম্পানি তিনটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে। প্রতি বছর ধারাবাহিক ভালো লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে। বিবিএস ক্যাবলসকে নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন দেখেন। দেশের নাম্বার ওয়ান কোম্পানিতে পরিণত করতে চান বিবিএস ক্যাবলসকে।
মুলত ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের সাথে, বাংলদেশের সব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বিগত ১৩ বছরে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে । দেশের ক্যাবল শিল্প ও বর্তমান সরকারের নীতি থেকে উপকৃত হয়েছে। এই মুহুর্তে দেশের ক্যাবল শিল্প মালিকরা দেশের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে চায়। বৈশ্বিক বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক।
প্রাথমিকভাবে চীনা এবং ভারতীয় কোম্পানিগুলির সাথে বেশি প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ফলে আমি সরকারকে অনুরোধ করব যে, অন্তত ১০ শতাংশ করের ছাড় দিয়ে ক্যাবল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রপ্তানি করার সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য সরকারের প্রনোদনার দরকার।
সরকার যদি পাঁচ বছরের জন্য এটি অনুমোদন করে, আমি বিশ্বাস করি এই সময়ে আমরা একটি শক্তিশালী খাত হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। এছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিবিএস ক্যাবলস তার পণ্য উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে আমাদের ক্যাবল ব্যবহার করা হচ্ছে।
যা পণ্যের গুনগতমানের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতিরই অঙ্গীকারের প্রমাণ। দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ ও দেশ প্রতিক্ষণ ডটকমের সঙ্গে বিবিএস ও বিবিএস ক্যাবলসের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সহকারী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক তৌফিক ইসলাম।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: বিবিএস এর যাত্রা কবে, কিভাবে শুরু হয়?
আবু নোমান হাওলাদারঃ বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস) ২০০৩ সালে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ২০০৫ সালে আমরা কারখানা স্থাপন করি। ওই বছরই বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে সময়ে সময়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়। বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস হচ্ছে ফেব্রিকেটেড স্টিল স্ট্রাকচার উৎপাদনকারী কোম্পানি।
আমরা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যে স্টিলের বিল্ডিং তৈরি করে থাকি। মূলত আমরা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা কয়েকজন প্রকৌশলী, যৌথভাবে এই কোম্পানি গঠন করি। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া খুবই ভালো।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণঃ আপনার ব্যবসার শুরুটা সম্পর্কে বলুন। এছাড়া ব্যবসায় করতে এসে কি ধরনের বাধা বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে?
আবু নোমান হাওলাদারঃ প্রথমদিকে স্টিল স্ট্রাকচার বিল্ডিং অনেকে চিনতো-ই না। আমাদের যারা ক্লায়েন্ট তাদের কেউ কেউ জানতেন। আমাদের দেশের শিল্প-কারখানার বিল্ডিংগুলো অ্যাংগেলের বা আরসিসির হতো। এর জায়গায় আমরা প্রি-ফেব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং নিয়ে আসি। তাই প্রথমদিকে কিছু সমস্যা হয়। স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং আগে মধ্যেপ্রাচ্য থেকে আসতো। দেশে ২০০০ সালের দিকে এগুলোর উৎপাদন শুরু হয়।
আগেই বলেছি, প্রথমদিকে কিছু সমস্যার মুখোমুখী হতে হয়েছে আমাদেরকে। প্রথমত: অনেক ক্লায়েন্ট স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর সঙ্গে পরিচিত ছিল না বলে পণ্য বিক্রিতে কষ্ট হতো। এই বিল্ডিং এর সুবিধাগুলো তুলে ধরে নানাভাবে বুঝিয়ে তাদেরকে আগ্রহী করতে হতো। দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শকরা স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিংয়ের সঙ্গে পরিচিত না থাকায় কোম্পানির মালিকদেরকে আরসিসি বিল্ডিং করার পরামর্শ দিতেন।
এছাড়া শুল্ক, কর ও ভ্যাটের ক্ষেত্রেও ছিল নানা বিড়ম্বনা। মূলত স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং এর বিষয়টি নতুন হওয়ায় এসব সমস্যা হয়েছে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমরা এগিয়েছি। কোনো বাধাঁতে আমরা দমে যায়নি। মানুষকে স্টিল বিল্ডিংয়ের সুবিধা সম্পর্কে জানিয়েছি। অনেকের ভুল ধারণা ভাঙ্গিয়েছি। একটি দুটি করে বিল্ডিং হয়েছে। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে স্টিল ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং সম্পর্কে আস্থার জন্ম নিয়েছে।
দৈনিক প্রতিক্ষণ: স্টিল বিল্ডিং থেকে ক্যাবল তৈরির দিকে ঝুঁকলেন কেন?
আবু নোমান হাওলাদার : ক্যাবল ইঞ্জিনিয়ারিং খাত সংশ্লিষ্ট একটি পণ্য। আর আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর নিয়ে কাজ করি। একটা বিল্ডিংয়ের সাথে ক্যাবলও সম্পৃক্ত। আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিল্ডিং তৈরি করি, নানা কাজে তাদের ক্যাবলও প্রয়োজন হয়। বিল্ডিং দিয়ে যেহেতু আমরা গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছি, তাই ক্যাবল উৎপাদন করলে সহজেই তাদেরকে ক্রেতা হিসেবে পাওয়া যাবে এমন ভাবনা থেকে এই শিল্প শুরু করি আমরা। ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল একটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে বিবিএস ক্যাবলের যাত্রা শুরু।
২০১১ সালে আমরা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করি। যে কোনো শিল্পে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা যে সহজ নয় আমরা জানতাম। ক্যাবল শিল্পের চ্যালেঞ্জগুলোও আমাদের মাথায় ছিল। আমরা জানতাম, প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে উৎপাদিত ক্যাবলের গুণগত মান নিশ্চিত করা। ক্যাবল খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এর সঙ্গে সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তার বিষয় জড়িত।
দ্বিতীয়টি চ্যালেঞ্জটি ছিল এই শিল্পে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাওয়া। আমরা এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস অটুট রেখে মেধা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে মাঠে নামি। ক্যাবলের গুণগত মানের উপর ভর করেই আমরা এতদূর এসেছি।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: বিবিএস ক্যাবলস কী ধরনের ক্যাবল তৈরি করে।
আবু নোমান হাওলাদার: আমরা অ্যালুমিনিয়াম ক্যাবলস, কপার ক্যাবলস, সিলিকন ক্যাবলস, অপটিক্যালস ফাইবার ক্যাবলস, পাওয়ার ক্যাবলস, রাবার ক্যাবলস, রেলওয়ে সিগনালিং ক্যাবলস, ওয়েল্ডিং ক্যাবলস, জেলিফিলস ক্যাবলস, অটোমোবাইলস ক্যাবলস, সাবমার্সিবল ক্যাবলস, কক্সিয়াল ক্যাবলস, ফেল্ক্সিবল ক্যবলস, হাউজ ওয়ার ক্যাবলসহ বিভিন্ন ধরনের ইলক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক এবং টেলিকমনিকেশন ক্যাবলস উৎপাদন করি।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: বিবিএস ক্যাবলের মানের বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করেন।
আবু নোমান হাওলাদার : আমাদের খুবই সমৃদ্ধ একটি ল্যাবরেটরি আছে। উৎপাদিত ক্যাবলস প্রথমে সেই ল্যাবে পরীক্ষা করি। ল্যাব পরীক্ষা সফল হলে অন্যদিকে যাই। আইএসই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী যে ধরণের পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়, সেগুলো করার পরে আমরা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাই। নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাইরে আমরা বুয়েট ও থার্ড পার্টির মাধ্যমে পরীক্ষা করি।
যেমন বুয়েটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সিপিআরআই পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের আছে। সরকারের যে কোনো টেন্ডারে এই দুটি রিপোর্ট চায়। এর বাইরেও মাঝে মাঝে আমরা আন্তর্জাতিক আরও পরীক্ষা করে থাকি।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: বিবিএস ক্যাবলস খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন।
আবু নোমান হাওলাদার : বিবিএস ক্যাবলস ২০১১ সালে মার্কেটে আসে। মার্কেটে আসার আগে দু’বছর ফ্যাক্টরি, মেশিনারি সিলেকশন এবং টেকনিক্যাল ম্যান পাওয়ার সিলেকশনের ব্যাপারে কাজ করি। আমরা অস্ট্রেলিয়ান একজন কনসালটেন্ট নিয়োগ করি। যার ফলে আমরা বিশ্বমানের একটা ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে সক্ষম হই।
বর্তমানে যারা লেটেস্ট মেশিনারি তৈরি করেন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদের ফ্যাক্টরিতে মেশিন সংযোগ করি। সাথে সাথে আমাদের রেপুটেড যে সকল ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রোডাকশন পিপল রয়েছেন তাদেরকে আমরা আমাদের ফ্যাক্টরিতে আমাদের সাথে সংযোগ করি। অনেকে বলে থাকেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের মার্কেটিং ও সেলস টিমটা বেশ ভালো টিম। সবগুলোর সমন্বয়ে আমরা প্রথম দিন থেকে বিশ্বমানের ক্যাবল ভোক্তাদেরকে দিতে পেরেছি। আমরা আমাদের রেপুটেশন ধরে রেখেছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা বেষ্ট ক্যাবল তৈরি করেছি।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য আপনার কি বার্তা?
ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার: প্রতি বছরই বিবিএস ক্যাবল ভাল ব্যবসা করছে। মুনাফাও করছে। সরকারের কোষাগারে ভালো ট্যাক্স ভ্যাট দিচ্ছে। সাথে সাথে আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের ভালো ডিভিডেন্ট দিচ্ছি। বিনিয়োগকারীরা এতে করে আমাদের উপরে অনেক সন্তুষ্ট। আমরাও বিনিয়োগকারীদের যে ফিডব্যাক পাই, এজিএম গুলোতে। তাতে আমিও সন্তুষ্ট। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ থাকবে, তারা যাতে ভালো কোম্পানি দেখে বিনিয়োগ করে। যাদের মূল ভিত্তিটা অনেক শক্তিশালী। ফলে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ: বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ও ডলারের সংকট সর্ম্পকে কিছু বলুন।
আবু নোমান হাওলাদার : বর্তমানে সারা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। একই সাথে ডলারের সংকট চলছে। ইতোমধ্যে সরকারের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে এর পূর্বাভাস ও দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা শুধু দেশের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করি না, ব্যবসার স্বার্থে সারা বিশ্বের সাথে আমাদের যোগাযোগ রাখতে হয়। আমরা ইতোমধ্যে ডলারের সংকট নিয়ে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ডলারের সংকট একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। এটিকে সে ভাবেই দেখতে হবে। বাংলাদেশ কোন বিচ্ছিন্ন দেশ নয়।
আবার বিচ্ছিন্ন কোন ভূমিও নয়। আমরা প্রচুর পরিমানে যেমন রপ্তানি করি, তেমনি আবার বিপুল পরিমানে আমদানিও করতে হয়। বর্তমান এই প্রযুক্তির যুগে বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ সহজেই সব তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। এতে এক জায়গার সমস্যা সহজে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে মনে করি বিশ্বের যে কোন একটি দেশ সমস্যার মধ্য দিয়ে যখন যাওয়া শুরু করে তখন অন্য দেশেও এর প্রভাব পড়ে।
মুলত আমাদের দেশে ডলার সংকটের প্রধান কারন বর্তমান আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। এতে ডলারের উপর বেশ চাপ পড়েছে। আমাদের ডলারে যোগান আসে মুলত রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স থেকে। আমরা সবসময় দেখেছি রেমিট্যান্স উঠা নামা করে।
দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণকে আপনি সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনাদেরকে ধন্যবাদ। এগিয়ে যাক দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ।



