স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পূর্বের তারিখ ব্যবহার করে সই (ব্যাকডেটিং) করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের কাজ গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় এফআরসি স্পষ্ট করে বলেছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়; বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এই তারিখের মাধ্যমে বোঝা যায় যে নিরীক্ষক প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিবেদনের তারিখে কারসাজি বা পরিবর্তন বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এতে আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এফআরসি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মানদণ্ড অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেট দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিদ্যমান আইন বা বিধিমালার কোথাও এ ধরনের চর্চার কোনো অনুমোদন নেই।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আর্থিক বিবরণী অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরীক্ষার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সই করতে হবে এবং সইয়ের তারিখ বাস্তব সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নিরীক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড (ডিভিসি) সংগ্রহ করতে হবে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সইয়ের তিন দিনের মধ্যেই এই কোড নিতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে কোড সংগ্রহ করা যাবে, তবে তা কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে।

এফআরসি নির্দেশনায় সতর্ক করে বলেছে, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বা ব্যাকডেটিংয়ের মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্ডার, ১৯৭৩সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।