স্বল্প আয়ের মানুষের কার্যকর সুরক্ষার হাতিয়ার ‘মাইক্রোইন্স্যুরেন্স’
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা হঠাৎ আয়–রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকির সময়ে জীবনবীমা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রচলিত বীমাসেবা এখনো অনেকাংশে নাগালের বাইরে। এই বাস্তবতায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা হতে পারে ‘মাইক্রোইন্স্যুরেন্স’।
মাইক্রোইন্স্যুরেন্স হলো এমন একটি বীমা ব্যবস্থা, যেখানে স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প প্রিমিয়ামের মাধ্যমে জীবন ও আর্থিক ঝুঁকির বিপরীতে সুরক্ষা পান। মূলত সমাজের অর্থনৈতিক পিরামিডের নিচের স্তরের জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনতেই এ ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকলেও তাদের অধিকাংশেরই পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। মাইক্রোইন্স্যুরেন্স সেই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প প্রিমিয়ামে সহজ শর্তে বীমাসেবা পাওয়া। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের পক্ষেও নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির সুযোগ থাকায় জরুরি সময়ে তারা দ্রুত আর্থিক সহায়তা পান। বাংলাদেশে কৃষকদের দুর্যোগ সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনবীমা খাতে এ ধরনের বীমা কার্যক্রম ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
দেশে বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানি মাইক্রোইন্স্যুরেন্স নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ‘ইন্স্যুরেন্স ফর অল’ ধারণার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে পৃথক একটি মাইক্রোইন্স্যুরেন্স বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে ভবিষ্যতে মাইক্রোইন্স্যুরেন্স আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টেকসই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ খাতের সম্প্রসারণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।



