শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতন প্রবণতা থেকে বেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এদিন সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। মুলত ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী থাকলো। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মুলত ঈদ কেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমায় পুঁজিবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রির চাপ থাকায় কিছুদিন আগে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হয়েছে। এখন সেই প্রবণতা থেকে বাজার বেরিয়ে এসেছে।

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, প্রতিবছর ঈদের আগে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। অনেকে ঈদের খরচের জন্য শেয়ার বিক্রি করেন। এবারও শেয়ার বিক্রির এক ধরনের চাপ ছিল। যে কারণে বাজারে পতন প্রবণতা দেখা যায়। ঈদের আগে যেভাবে তারল্য সংকোচন ও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। পাশাপাশি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফিরছে। তবে বাজার এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হয়নি, তাই বিনিয়োগে সতর্কতা প্রয়োজন।

ডিএসইর আর এক সদস্য বলেন, বাজারে এখন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বিনিয়োগের উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশির ভাগ শেয়ার দাম অনেক কমে গেছে। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে এখান থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানো স্বাভাবিক।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৭৫ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৩ টির, দর কমেছে ৯৩টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯ টির।  ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৮৬৭কোটি ৪৮ লাখ টাকার। যা আগের দিন থেকে ২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০০টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫৮টির আর ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।