দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের কর্পোরেট ও আর্থিক খাতের অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ মাসুদ খান। প্রায় চার দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনন্য দক্ষতার কারণে ব্যবসায়ী মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি ও বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিলেন।

মাসুদ খানের জন্ম চট্টগ্রামে হলেও তার স্কুলজীবন কাটে ভারতের কলকাতায়। পরবর্তীতে কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত যোগ্যতার অংশ হিসেবে তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়া থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব কষ্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়া থেকে কষ্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডিগ্রি লাভ করেন।

৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মজীবনে মাসুদ খান দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও প্রধান নির্বাহীর উপদেষ্টা হিসেবে সফলতার সাথে কাজ করেছেন।

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ, লাইবেরিয়ার মনরোভিয়া টোব্যাকো কর্পোরেশন ও বিশ্বখ্যাত অডিট ফার্ম প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) কলকাতার মতো প্রতিষ্ঠানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে মাসুদ খানের বিশাল অভিজ্ঞতা আছে। তিনি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ এবং ভিয়েলাটেক্স গ্রুপের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পেশাগত জীবনের বাইরে তিনি একজন শিক্ষক ও সমাজসেবক। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) অতিথি শিক্ষক হিসেবে তিনি নতুন অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি নিজ গ্রাম চট্টগ্রামের চুনতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর্পোরেট সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক নেতৃত্বে মাসুদ খানের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাজারে কারসাজি রোধ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি গতিশীল ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গড়ে তোলাই হবে তার প্রধান কাজ।