আস্থা ফিরছে পুঁজিবাজারে,বাজার মূলধন বাড়লো ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দীর্ঘ মন্দা ও অস্থিরতা কাটিয়ে অবশেষে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নানামুখী নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে বাজারে গতিশীলতা ফিরে এসেছে।
ফলে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবস সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক উর্ধ্বমুখী থাকার পাশাপাশি লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক মূল্য সংশোধনের পর মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে, যা বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুঁজিবাজারে এই ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি জোরদার ও বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। গত দুই বছরের তুলনায় বর্তমানে সূচক ও লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই বাজার তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তেমনি বর্তমান বাজারের এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ছয় হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সাথে দৈনিক লেনদেনও তিন হাজার কোটি টাকার ঘরে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ০৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বা দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৬ হাজার ৯১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৫ হাজার ৭৩৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা কমেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২০ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৮৯ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫১ টির, কমেছে ১২২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।
এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৬৯ শতাংশ ও ০.৫৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫১৫.২২ পয়েন্টে ও ৯৪৯৩.১৭ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ০.২৫ শতাংশ ও সিএসআই ১.৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৪০০০.৮৭ পয়েন্টে ও ৮৭৭.১৮ পয়েন্টে। তবে সিএসই-৫০ সূচক কমেছে ০.০৯ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ১১০৯.২২ পয়েন্টে।
চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ১৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৩৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২১২টির, কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির কোম্পানির শেয়ার দর।



