শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার টানা দরপতন চলছেই। তলানিতে নেমেছে পুঁজিবাজার। ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে দেখে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজারে রীতিমত ধস নেমেছে। তবে টানা দরপতন হলেও বাজার ইস্যুতে নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রশ্ন উঠেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তার দায়িত্ব কার?

আর এ ভাবে চলতে থাকলে কোন বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। ফলে আস্থা সংকটে হাহাকার হয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা চললেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। দীর্ঘ মন্দার প্রভাবে চলতি বছরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্টে যায়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একপর্যায়ে সূচকটি ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে।

এতে দীর্ঘদিন ধরে বহন করা বিনিয়োগকারীদের বড় লোকসান কিছুটা কমে আসে। তবে সম্প্রতি আবারও বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা আবারও ভারী হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও বিনিয়োগ করা পুঁজি হারানোর শঙ্কা পেয়ে বসার পাশাপাশি আস্থার সংকটও তৈরি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে ১০ মিনিটও সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। বরং লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে রীতিমত ধস দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। ফলে এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪১৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৭২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৭ টির, দর কমেছে ৩৩৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১ টির। ডিএসইতে ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭১৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৮ টির এবং ১৮ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।