ভালো লভ্যাংশের শেয়ারে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের কারণে দেশের পুঁজিবাজার আরও বেশি বিনিয়োগযোগ্য বা উপযোগী হয়েছে উঠেছে। যে কোনো সংকটের পাশেই থাকে সম্ভাবনা। পুঁজিবাজারও ঠিক এরকম। বর্তমানে পুঁজিবাজারে বহুমুখী সংকট রয়েছে। বিপরীতে দশ বছরের মধ্যে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আর্কষণীয় অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যস্তর। ভালো মৌলভিত্তি সম্পূর্ণ বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের এমন অবস্থায় চলে এসেছে, তাতে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা আসবেই। কারণ এখন লভ্যাংশ মৌসুম।
এসময় ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ভালো লভ্যাংশ আসবে। এর মধ্যে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো অন্যতম। পাশাপাশি অ্যানালাইসিস কোম্পানির শেয়ারের মুভমেন্ট বলে দেবে। শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পূর্ণ শেয়ারের বেশ কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে।
এরমধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রথমত শেয়ারের সম্পদ মূল্য দেখতে হবে। সংক্ষেপে বলা হয় নিট এসেট ভ্যালু (এনএভি)। প্রকৃত সম্পদ মূল্য ভালো শেয়ার সম্পদ মূল্য বেশি থাকে। দ্বিতীয় শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস। একটি কোম্পানি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কী পরিমাণ আয় করছে, বিনিয়োগের জন্য তা অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। এরপর শেয়ারের মূল্য ও আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় এবং শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্যের অনুপাত। এটি বাজারের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। এ অনুপাত যত কম, শেয়ার তত ঝুঁকিমুক্ত।
বাজার বিশেষকদের মতে, বাজারের অন্যতম আরেক মাপকাঠি হল কোম্পানির লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড। এ লভ্যাংশ কখনও নগদ বা বোনাস শেয়ার হতে পারে। তবে ভালো কোম্পানিগুলো নগদ লভ্যাংশ বেশি দেয়। এছাড়াও রয়েছে কোম্পানির বুক ভ্যালু ও প্রবৃদ্ধির হার। অন্যদিকে কোম্পানির উদ্যোক্তা হিসেবে কারা রয়েছে, তাদের পেছনের রেকর্ড অবশ্যই বিনিয়োগের জন্য বিবেচনায় নিতে হবে।
আর টেকনিক্যাল এনালাইসিসের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এর ব্যাখা হল যে কোম্পানির শেয়ার কেনা হবে তার বর্তমান আয়, বার্ষিক আয়, কোম্পানির নতুন কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা, কোম্পানির পণ্য সরবরাহ কেমন, নেতৃত্বে কারা আছে, কোম্পানির শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কেমন এবং সব শেষে ওই কোম্পানির পণ্যের বাজারে চাহিদা কেমন আছে।
যিনি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী তার প্রথম কাজ হবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক বিবরণ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেয়া। প্রতিটি কোম্পানি প্রতি বছর বার্ষিক আয়-ব্যয় সংবলিত একটি প্রতিবেদন পেশ করে। ওই প্রতিবেদন সংগ্রহ করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী (সিইও) বলেন, পিই রেশিও বিবেচনা করলে বাজার সম্পূর্ণরূপে বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় আছে। এছাড়া ভালো মৌল ভিত্তি শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা আসে। তেমনি অনেক শেয়ারের দাম খুবই কমেছে। খুব ভালো নয়, আবার খারাপও নয় এমন অনেক কোম্পানি আছে, যেগুলোতে বিনিয়োগ করে রাখতে পারলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
ফলে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) .৭৯ শতাংশ কমেছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮.৮৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.৭৯ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০৭ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমেছে।



