দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থানে শেষ হয়েছে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে ভর করে সূচক ও লেনদেনের উত্থান হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ারে দর বাড়ায় কিছুটা হলেও আস্থা ফিরছে বিনিয়োগকারীদের।

মুলত ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক পুঁজিবাজারে। মুলত ডিএসইর সূচকের উত্থানের নেপথ্যে ছিলো শীর্ষ ১০টি বড় মূলধনী কোম্পানি।

ডিএসই ও লঙ্কাবাংলা অ্যানালাইসিস পোর্টাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা কোম্পানিগুলো হলো: ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, রেনেটা, বিএটিবিসি, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, গ্রামীণফোন, আইডিএলসি ও ইউসিবি। এই ১০ কোম্পানি মিলেই আজ ডিএসইএক্স সূচকে প্রায় ৫৬ পয়েন্ট যোগ করেছে।

ডিএসইর সূচকের উত্থানে সব্বোর্চ ভূমিকা রাখছে ইসলামী ব্যাংক। আজ ডিএসইতে ব্যাংকটি একাই সূচকে প্রায় ২৯ পয়েন্ট অবদান রাখে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ৪ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৪০ পয়সায়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৫২ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এদিন ব্যাংকটি ডিএসইএক্স সূচকে প্রায় ৮ পয়েন্ট যোগ করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারদর ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ টাকা ৯০ পয়সায়। দিনের মধ্যে শেয়ারটির দর ৭৬ টাকা থেকে ৭৮ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সূচকে প্রায় ৫ পয়েন্ট যোগ করেছে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ারদর ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৭০ পয়সায়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ১৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।

দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রেনেটা সূচকে ৩ পয়েন্টের বেশি, বিএটিবিসি প্রায় ৩ পয়েন্ট, সিটি ব্যাংক ২ পয়েন্টের বেশি, ইস্টার্ন ব্যাংক প্রায় ২ পয়েন্ট, গ্রামীণফোন প্রায় ২ পয়েন্ট, আইডিএলসি প্রায় ১ পয়েন্ট এবং ইউসিবি প্রায় ১ পয়েন্ট যোগ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় মূলধনী ও আর্থিক খাত ভুক্ত কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে সূচকের এই উত্থান বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, ইতিবাচক এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে।