শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থান হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবস কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে বড় উত্থানের পর মুলত বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপে এই কারেকশন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কারণ দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও রাজনৈতিক মেরুকরণসহ নানান অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগমুখী হচ্ছেন। ফলে পুঁজিবাজারে নতুন করে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকায় সূচকের পতন হয়েছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সূচকের উঠানামার মধ্যে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটের আগে দুই কার্যদিবস এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কর্যদিবসে উত্থানে কিছু কোম্পানির শেয়ার দাম বেশ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এই সুযোগে মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ায়। এ কারণে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে।

এর আগে ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ফলে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে বাজার মূলধন বাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। সেই সঙ্গে পাঁচ মাস পর হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মেলে।

এমন উত্থানের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৫০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টা পার হতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে বড় হয় দাম কমার তালিকা। বিক্রির চাপ থাকলেও এদিন বাজারে ক্রেতারাও বেশ সক্রিয় ছিলেন। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এর ফলে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেনের দেখা মিলেছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। সোমবার সকালে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই ও সিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে বেলা ১০টা ২০ মিনিটের পর থেকে সূচক পতনমুখী হতে শুরু করে। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সূচকের পতনমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৩ টির, দর কমেছে ২১৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫২৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯০ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।