দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

পাশাপাশি নবনির্বাচিত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।  বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এ শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।

বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণে তারেক রহমান ও তাঁর দলের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি’র ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে সেই আস্থা ও প্রত্যাশার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানের বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সকল স্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন হবে, দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে এবং দেশ সামগ্রিকভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

ডিবিএ মনে করে, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক খাত এবং আস্থাভিত্তিক টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, আস্থাহীনতা, সুশাসনের ঘাটতি ও নীতিগত অসামঞ্জস্য দূর করে আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

এই প্রেক্ষাপটে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাজার কাঠামো গড়ে তোলা এবং নীতি-সহায়ক ও স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর ডিবিএ গুরুত্বারোপ করে।

ডিবিএ আশা প্রকাশ করে যে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাঁর সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে পুঁজিবাজারের সংস্কার ও উন্নয়নে ঘোষিত পরিকল্পনাসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবেন। পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিবিএ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে আগ্রহী।

ডিবিএ-এর প্রেসিডেন্ট বার্তায় আরো উল্লেখ করেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত ব্যক্তি। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

ডিবিএ আরও জানিয়েছে, তিনি অতীতে সফলভাবে বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছে, তার প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্বে বিশেষ সহায়ক হবে।

তিনি পুঁজিবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

ডিবিএ জানিয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এবং সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জেসের প্রথম সভাপতি হিসেবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।