শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান দেখা মিললেও গত কার্যদিবস ধরে টানা সূচকের দরপতন হচ্ছে। ফলে নতুন সরকারের গঠনের পরও টানা তিন কার্যদিবস দরপতনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

বিশেষ করে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ব্যাংক খাতের শেয়ারের বড় দরপতনে সূচকের পতন হয়েছে। মুলত ব্যাংক খাতের শেয়ার বাড়লে সূচক বাড়ে তেমনি ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতন হলে সূচক কমে। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে সূচকের উঠানামা মুলত ব্যাংক খাতের উপর নির্ভর করছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সূচকের বড় উত্থান হলেও, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবস বুধবার সূচকের বড় দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজারে দরপতন হলো। এখন টানা পতন হলেও ভোটের আগের দুই কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ১৭০ পয়েন্ট। আর ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে সূচকটি বাড়ে ২০০ পয়েন্ট। অর্থাৎ তিনদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ৩৭০ পয়েন্ট।

এমন উত্থানের পর গত তিন কার্যদিবসে দরপতনে প্রায় ৮১ পয়েন্ট সংশোধন হয়েছে। একে বড় পতন না বলে স্বাভাবিক সমন্বয় হিসেবেই দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, বাজার এখনো সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। খুব দ্রুত বাজার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।

তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি থাকায় লেনদেনে কিছুটা মন্থরতা দেখা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারে আবারও গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তারা। ফলে দিনভর লেনদেনে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি; বরং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে লেনদেনে অংশ নিয়েছেন।

জানা গেছে, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫১৯ দশমিক ১৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ১০৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১০ দশমিক ৪ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিলে ৮২টির শেয়ার দর বেড়েছে, ২৮৬টির কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ২৮৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা কম।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানির মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১২৭টির কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের দিন সূচক কমেছিল ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।