মনির হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ভ্যাট হিসাবে গরমিল পেয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক। একইসঙ্গে কোম্পানিটি তাদের আর্থিক হিসাব প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নির্দেশনা পালন করেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে সরকার ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ভ্যাট বাবদ পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট রিটার্নের (মূশক ৯.১)-এ সঙ্গে পাওনা হিসাবের ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার গরমিল রয়েছে।

নিরীক্ষক আরো জানিয়েছেন, কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবে পণ্য বিক্রি বা টার্নওভার দেখিয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তবে ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। এক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক হিসাবে দেখানো তথ্যের সঙ্গে ভ্যাট রিটার্নের পণ্য বিক্রির পার্থক্য ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকা।

এদিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। তবে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুসারে, শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে অর্থ গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে সেই অর্থ শেয়ার ক্যাপিটালে রূপান্তর (কনভার্ট) করতে হয়। কিন্তু কোম্পানিটি সেটা করেনি। ফলে এফআরসির নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

মুলত মেঘনা পেট্রোলিয়াম ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় । কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের হাতে ৫৮.৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩২.৮৩ শতাংশ, বিদেশে বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৯ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮.৪১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।