শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উত্তরণকালের নির্বাচনী ইশতোহারে সবার জন্য অর্থনীতির সুযোগ করে দিতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছে বিএনপি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ফলে দেশের ‘অর্থনীতির প্রাণভোমরা’ পুঁজিবাজার আরো গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হবে এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের।

কারণ আওয়ামী লীগের দেড়যুগের শাসনামলে পুঁজিবাজারে যে মন্দা অবস্থা ছিল, অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সূচকের বড় উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে তা কাটিয়ে উঠার আশা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই আশা ভিত্তি পায়নি, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড়বছর পুঁজিবাজারে টালমাটাল অবস্থা ছিল। ঠিক দেড় বছরের মাথায় নির্বাচনের পর সেই দুর্দশা কাটার ইঙ্গিত মিলল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নীতিগত দ্বিধা এবং আস্থাহীনতার কারণে পুঁজিবাজারে স্থবিরতা বিরাজ করছিল; লেনদেন তলানিতে নেমে গিয়েছিল। অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে সরে সতর্ক পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা পেয়ে ফের নতুন করে বাজারমুখী হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তারই বড় উদাহরন গত তিন কার্যদিবসে লেনদেন হাজার কোটির বেশি হয়েছে। মুলত সুদৃঢ় মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ার কেনায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের ইতিবাচক।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি হারানো আস্থা ফিরে পেয়েছেন। আস্থার ফলেই বাজারে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। গত তিন কার্যদিবস ধরে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে হলে সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোর উন্নয়ন জরুরি। টেকসই পুঁজিবাজারের জন্য সুদহার যৌক্তিকীকরণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর জোর দেন তিনি।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৭পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৬ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১ টির, দর কমেছে ২৩৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৯৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১০ টির এবং ২৭ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২১ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।